আজ বৃহস্পতিবার, ১লা অক্টোবর, ২০২০ ইং, ১৬ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

ব্রুনাইয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন প্রবাসী স্বামী : দেশে ঘরছাড়া স্ত্রী

আমিরাত সংবাদ

দুই বছর আগে (২০১৮ সালের আগস্ট) হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে বডি কন্ট্রাকের মাধ্যমে ব্রুনাই দারুসসালামে পাচারের শিকার হয়েছেন ফরিদপুরের মাফিক শেখ। ভালো বেতনে ড্রাইভিং ভিসায় দালালচক্র ৩ লাখ ৮০ হাজার টাকা নিলেও অবৈধভাবে ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে তাকে ব্রুনাই পাঠানো হয়। ব্রুনাইয়ে গিয়ে ৪-৫ মাস জঙ্গলে পালিয়ে থাকতে হয়েছে তাকে। সইতে হয়েছে নির্যাতন। ভালো কাজ বা বেতন তো দূরে থাক, উল্টো পুলিশের ভয়ে ব্রুনাইয়ের বিভিন্ন স্থানে পালিয়ে বেড়াতে হচ্ছে তাকে। শুধু তাই নয়, মাফিক শেখকে দিয়ে আরো একটি প্রতারণার ছক আঁকে দালালচক্র। তাকে তাদের মালিকানাধীন রেস্টুরেন্টে কুকের কাজ দেয়ার কথা বলে তার মাধ্যমে ওই রেস্টুরেন্টে আরো ১৩ জন লোক ব্রুনাইতে নেয়ার বন্দোবস্ত করে। এই ১৩ জনের নামে ভিসা ও ফ্লাইটের তারিখ সংবলিত বিমানের টিকিটও দেখানো হয় মাফিককে। ১৩ জনের কাছ থেকে ২ লাখ করে মোট ২৬ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয় দালালচক্র। পরে জানা যায়, ভিসা ও বিমানের টিকিটগুলো ছিল ভুয়া।

এ দিকে টাকা দিয়েও ব্রুনাইতে যেতে না পেরে ভুক্তভোগীরা (১৩ জন) নানাভাবে মাফিকসহ ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার রূপাপাত গ্রামে থাকা স্ত্রী ও পরিবারকে হুমকি দিচ্ছেন। পুলিশ দিয়েও হয়রানি করার অভিযোগ রয়েছে। এমতাবস্থায় গ্রাম থেকে ছোট দুই সন্তানকে নিয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন স্ত্রী সামেলা বেগম।
জানা যায়, দালাল ইলিয়াছ মাঝিকে (পিতা-দোলাল মাঝি, গ্রাম-দোহারী, থানা-লৌহজং, জেলা-মুন্সীগঞ্জ) প্রধান করে গত ২৮ জুলাই ফরিদপুরের বোয়ালমারী থানায় ৩ জনের নামে মানবপাচার মামলা দায়ের করেছেন স্ত্রী সামেলা বেগম। এই মামলার অন্য দুই আসামি হলো- মেহেরপুরের মুজিবনগর উপজেলার যতারপুর গ্রামের মোস্তাকিনের ছেলে মেহেদী হাসান বিজন এবং মুন্সীগঞ্জের টঙ্গিবাড়ী উপজেলার দোরাবটি গ্রামের মো: আব্দুর সরদারের ছেলে মো: ইসমাইল সরদার।

ব্রুনাইয়ে থাকা মাফিক শেখের সাথে কথা হয় এই প্রতিবেদকের। তিনি বলেন, মানবপাচারের একটি মামলা বোয়ালমারী থানা নিয়েছে। কিন্তু ১৩ জনের কাছ থেকে প্রতারণা করে যে টাকা নিয়েছে দালালচক্র সে ব্যাপারে মামলা নেয়নি পুলিশ। মাফিক শেখ বলেন, আমি এত টাকা খরচ করে ব্রুনাইতে এসে এখানে সেখানে পালিয়ে বেড়াচ্ছি। এখন গ্রামেও স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে পালিয়ে বেড়াতে হচ্ছে। প্রশাসন যদি দালালদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেয় তাহলে আমার আত্মহত্যা করা ছাড়া উপায় নাই।

মাফিক শেখ বলেন, এই ১৩ জনের টাকা আমি নেইনি। আমার মাধ্যমে দালালচক্র নিয়েছে। তারা তো আমার সাথে প্রতারণা করেছেই আমাকে দিয়ে এই ১৩ জনের সাথেও প্রতারণা করেছে। এখন এই ১৩ জন এবং তাদের পরিবারের পক্ষ থেকে যখন তখন আমাকে ফোন দিয়ে টাকার জন্য গালাগালি করে। বাড়িতে গিয়ে আমার স্ত্রীকে চাপ দেয়। পুলিশ নিয়ে যায়, বিভিন্ন জনকে দিয়ে ফোন দেয়ায়। আমার স্ত্রী মানবপাচারের একটি মামলা করেছে। ১৩ জনের প্রতারণার ব্যাপারে আরো যারা দায়ী তাদের বিরুদ্ধেও মামলা করতে চাইলে পুলিশ নেয়নি। ঢাকায় মামলা করতে বলেছে। আমি ব্রুনাইতে একটা রুমে সিঙ্গারা-জিলাপি বানাই। রাতে ঝুড়িতে করে তা বাংলাদেশীদের ক্যাম্পে (যেখানে একসাথে অনেকে থাকেন) নিয়ে বিক্রি করি। এটা পালিয়ে পালিয়ে করতে হয়। কারণ আমার তো পাসপোর্ট ভিসা নাই। এখানে আমি পালিয়ে বেড়াই আর দেশে দুই সন্তানকে নিয়ে স্ত্রী পালিয়ে বেড়াচ্ছে। গত এক সপ্তাহ হলো আমার স্ত্রী ঘরছাড়া। আমি এর বিচার চাই।

এ ব্যাপারে দালালচক্রের ম্যানেজার হিসেবে যিনি ১৩ জনের কাছ থেকে টাকা নিয়েছেন আবির ওরফে খালিদ মোল্লার মোবাইলে কল দিলেও বন্ধ পাওয়া যায়। অভিযুক্ত অন্যদের মধ্যে আব্দুর রহিম জেলে। বাকিদের বিরুদ্ধে মামলা থাকায় তারাও পলাতক রয়েছেন, তাই তাদের সোথে যোগাযোগ করা যায়নি।

নয়া দিগন্ত